ইয়ামিনুল হাসান আলিফ : রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে অবস্থান করা সোহেল আহমেদ (ছদ্মনাম) নামে এক ট্রাক চালকের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিতে হয় তাদের। আর বড় অংকের চাঁদা দিতে হয় তেজগাও ট্রাক স্ট্যান্ডে। মাসে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে এই ট্রাক স্ট্যান্ড ঘিরে। কেন চাঁদা চাওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করার সুযোগও থাকছে না ভুক্তোভোগীদের। কারণ, কথা বললেই নির্যাতন শুরু হয়। রাজধানীর ব্যস্ততম এই এলাকার ট্রাক স্ট্যান্ড ঘিরে শুধু চাঁদাবাজিই নয়, গড়ে উঠেছে এক মাফিয়া সাম্রাজ্য। যার মূল নিয়ন্ত্রণ সদ্য পদ হারানো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় কমিশনার ও কয়েক শ্রমিক নেতার হাতে। চাঁদাবাজি, দোকান দখল, মাদক ব্যবসার ’সেইফ জোন” হিসেবে গড়ে উঠছে এই ট্রাক স্ট্যান্ড।
ট্রাক স্ট্যান্ডের মালিকানায় তৈরি হওয়া বহুতল মসজিদের তিনটি ফ্লোরে গড়ে ওঠা মার্কেটের শত-শত দোকান দখল করে তা ভাড়া দিয়ে সেই টাকা আত্মসাত করছে এই চক্রটি। অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে মার্কেট এবং বহুতল ভবন নির্মাণ করে মাসে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজির পাশাপাশি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপের ভরপুর থাকা তেজগাঁও টার্মিনালের ভিতরে গাড়ি প্রবেশ করলে প্রতি গাড়ি থেকে ১২০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, সদ্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর পৃষপোষকতায় ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মগবুল হোসেন, ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি মনির তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাশেম গং এর নেতৃত্বে দোকান দখল, গাড়ি প্রতি চাঁদা আদায়, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

চাঁদা না দেওয়ার চেষ্টা করা হলে কিংবা প্রতিবাদ করা হলে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন চালায় এই মাফিয়ারা। আওয়ামী লীগের পতনের পরেও চেষ্টা করা হচ্ছে এই অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার।
গতকাল বুধবার তেজগাঁও স্ট্যান্ড সংলগ্ন মসজিদের মাইকে সাধারণ শ্রমিকরা মোটর শ্রমিক ও মালিকদের বিনীতভাবে অনুরোধ করেন চাঁদা প্রদান না করতে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ করা ওই দখলদার বাহিনী। মসজিদের মাইক ব্যবহার করায় উক্ত চাঁদাবাজদের নির্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনী মসজিদের খতিবকে ব্যাপকভাবে মারধর করে। পরে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে সাধারণ শ্রমিক বলছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের কোথায়ও আর কোনো চাঁদাবাজদের ঠাঁই দেওয়া হবে না। পরিবহনের সব সেক্টর থেকে চাঁদাবাজদের উৎখাত করতে হবে। শুধু ট্রাক স্ট্যান্ডই নয়, জনগণের প্রত্যাশা পুরো দেশই হবে চাঁদাবাজ মুক্তি।