রমজানকে সামনে রেখে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে—তার মধ্যে খেজুর, চিনি, ডাল ও ছোলার আমদানিতে গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিপরীতে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার জন্য এলসি খোলা কমেছে। গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এলসি খোলার পরিসংখ্যানে এ প্রবণতা স্পষ্ট। পণ্য সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই নগদ মার্জিন সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করেছে।
গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শীর্ষ ২০ আমদানিকারকের সঙ্গে দামের বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে। সেখানে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ও বাজারদরের মধ্যে সমতা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা আমদানিতে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হলে দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়।
রমজানে প্রয়োজনীয় খেজুর, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মটর, ডাল, পেঁয়াজ ও মসলাসহ নয়টি পণ্য আমদানিতে এখন কম মার্জিনে এলসি খোলা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি সরবরাহকারীকে ৯০ দিন পরে মূল্য পরিশোধের শিথিলতাও দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণত শুধুমাত্র কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রোজা শুরু হওয়ায় এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে এসব নয়টি পণ্যের মোট ১০ লাখ ৮৭ হাজার টনের এলসি খোলা হয়েছে—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। খেজুরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে—২৩১ শতাংশ। দুই মাসে খেজুরের এলসি হয়েছে ১০ হাজার ১৬৫ টন। সয়াবিন তেলের এলসি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টনে। ডালের এলসি ৫০ হাজার টন, যা ৮৭ শতাংশ বেশি। ছোলার এলসি প্রায় ৫৫ হাজার টন হয়ে বেড়েছে ২৭ শতাংশ। চিনি ১১ শতাংশ বাড়িয়ে দুই লাখ ৯২ হাজার টন এবং মটর ডাল ২৯৪ শতাংশ বেড়ে এক লাখ ৬৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
তবে পেঁয়াজের এলসি নেমে এসেছে মাত্র ২০৩ টনে। রসুনের এলসি প্রায় ৮৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬১৪ টন এবং আদার এলসি কমেছে ২২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, দেশীয় বাজারে নতুন পেঁয়াজ, রসুন ও আদা ওঠায় এসব পণ্য আমদানি প্রয়োজন কমে গেছে, তাই ব্যবসায়ীরা রোজায় বেশি ব্যবহৃত পণ্যগুলোকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তার মতে, ডলারের যোগান ও মূল্যস্থিতি ভালো থাকায় রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
আরেক কর্মকর্তা জানান, বড় আমদানিকারকদের দাবির ভিত্তিতে কিছু সুবিধা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এলসি ছাড়া পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত পণ্য আমদানির শর্ত শিথিলের প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এলসি কনফারমেশন চার্জ কমে আসবে। একই সঙ্গে এবারের রমজান সবজির প্রচুর সরবরাহের মৌসুমে হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা কম।