• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

আয়কর রিটার্ন না দিলে বন্ধ হতে পারে গ্যাস–বিদ্যুৎ–ইন্টারনেট সংযোগ

Avatar photo
ইকোনমি বিডি
আপডেট: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, ২০২৫–২৬ করবর্ষের জন্য আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে।

চলতি করবর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩১ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি টিআইএনধারী থাকলেও বড় একটি অংশ এখনও রিটার্ন জমা দেননি।

এনবিআরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আয় থাকুক বা না থাকুক—পেশা ও কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ৪৫টি শ্রেণির টিআইএনধারীর জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন না দিলে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

এছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল বা অনুরূপ স্থানে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান, করপোরেট প্রোগ্রাম, সেমিনার, ওয়ার্কশপ বা প্রশিক্ষণ আয়োজনের ক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকারীর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে রিটার্ন জমা না থাকলে বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আয়কর আইনে কর কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে জরিমানা, অতিরিক্ত কর এবং অন্যান্য আর্থিক দায়ও আরোপ করা হতে পারে। এমনকি বেতন-ভাতা গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আয়কর আইনের ধারা ২৬৬ অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া রিটার্ন দাখিল না করলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা যাবে, যা ন্যূনতম এক হাজার টাকা। রিটার্ন দাখিলে বিলম্ব অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানার বিধানও রয়েছে।

তবে জরিমানার ক্ষেত্রে দুটি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাদের আগে কখনো কর নির্ধারণ হয়নি, তাদের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানা হবে ৫ হাজার টাকা। আর যাদের কর পূর্বে নির্ধারিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত করের ৫০ শতাংশ অথবা এক হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেটিই জরিমানা হিসেবে ধার্য হবে।

এছাড়া ধারা ১৭৪ অনুযায়ী কর অব্যাহতির সুবিধা কমে যেতে পারে এবং মাসিক ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধের দায়ও তৈরি হতে পারে।

চলতি করবর্ষ থেকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তি, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ বিধান শিথিল রাখা হয়েছে।

ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি দিয়েও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করা যাবে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা চাইলে পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ই-মেইল ব্যবহার করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার