বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ থেকে মো. আব্দুল জলিলকে অপসারণ করেছে।
সোমবার (১৭ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাকে অপসারণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
জানা গেছে, সোমবার অপসারণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বিকেলে আব্দুল জলিলকে অপসারণ করা হয় এবং ব্যাংকার ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এস এম আব্দুল হামিদকে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পাঁচজন সদস্য রয়েছেন এবং সবাই স্বতন্ত্র পরিচালক। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক এম জোবায়দুর রহমান।
এর আগে ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে সরিয়ে জোবায়দুর রহমানকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
সূত্র জানায়, পাঁচ সদস্যের পর্ষদে আব্দুল জলিল জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কর্মজীবনে সর্বশেষ তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর শুরুতে তাকে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। তবে একটি কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় গত বছর তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। এ সময় ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে গ্রুপটির বিরুদ্ধে।