• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

বিমা খাতে স্বচ্ছতার প্রতীক জেনিথ

Avatar photo
ইকোনমি বিডি
আপডেট: বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০২৪

নানা প্রশ্নবানে জর্জড়িত দেশের বিমা খাত। অভিযোগের যেনো অন্ত নেই। সেখানে ব্যতিক্রম শরিয়াহভিত্তিক বিমা কোম্পানি জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি কল্পানাতীত এগিয়ে গেছে। ব্যবসায়ে উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং কোম্পানির সুনাম অক্ষুন্ন রাখাসহ সব সূচকেই ঊর্ধ্বমুখী প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। এতসব অর্জনের পেছনে অধিনায়কের ভূমিকায় জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বর্তমান মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এস এম নুরুজ্জামান। তার নেতৃত্বে বেশ সফলতা পেয়েছে কোম্পানিটি। ব্যংকাসুরেন্স থেকে শুরু করে পুঁজিবাজারসহ সব সেক্টরেই ক্রমাগতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি। বিমা খাতে গ্রাহক ভোগান্তির খবর যখন মুখে মুখে ঠিক তখনই সেখানে ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এ প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের পলিসি পরিপক্ষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার বিমা দাবি পরিশোধ করে, এক্ষেত্রে কোনো প্রকার হয়রানি থাকছে না। কোম্পানিটির ব্যবসায় পলিসিও অন্যদের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রম। ডিজিটাল ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে বসে পাওয়া যায় প্রিমিয়ামের টাকা।

২০১৩ সালের ১১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে চতুর্থ প্রজন্মের শরিয়াহভিত্তিক বিমা কোম্পানি জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। সবার জন্য সুরক্ষিত, নিরাপদ ও সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হয় কোম্পানিটি। বর্তমানে ১ লাখ ৩৭ হাজারেরও বেশি গ্রাহককে স্বাস্থ্য ও জীবনবিমার আওতায় সেবা দিচ্ছে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। মেয়াদপূর্তি বাবদ প্রায় ১৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা এর মধ্যে আংশিক মেয়াদপূর্তি ও বেশি বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। মৃত্যুদাবি বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং স্বাস্থ্যবিমা দাবি বাবদ প্রায় ৮২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি। জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠার ১১ বছরে ১৮ কোটি টাকারও বেশি বিভিন্ন বিমা দাবি পরিশোধ করেছে। কোম্পানিটির দেশব্যাপী ৫৫টি শাখা অফিস ও প্রায় ১৩ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মী রয়েছেন।

অনেক কোম্পানি পলিসি পরিপক্ক হলেও নানা টালবাহানায় গ্রাহক ভোগান্তি তৈরি করে সেখানে ব্যতিক্রম চতুর্থ প্রজন্মের শরিয়াহভিত্তিক এই জীবনবিমা কোম্পানিটি। পলিসি পরিপক্ক হওয়ার সাথে সাথে ৭ কর্মদিবসের মধ্যেই বিমা দাবি পরিশোধ করে জেনিথ। ডিজিটাল ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই গ্রহণ করা যায় প্রিমিয়ামের টাকা। ঢাকা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, নগদ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি প্রিমিয়াম জমা দেয়ার ব্যবস্থা আছে জেনিথের।

বিমা দাবির জন্য দেনদরবার করতে হয়না কোম্পানির কোনো অফিসে। প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র পাঠিয়ে দিলেই খুব স্বল্প সময়েই গ্রাহকের হাতে পৌঁছ যায় তার ন্যায্য পাওনা। ইআরপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় বিমা কোম্পানিটির কার্যক্রম। রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শতাধিক গ্রুপ বিমা রয়েছে কোম্পানিটির। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সফল হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহক সন্তুষ্টির পাশাপাশি কোম্পানির শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে এসেছে নানা পুরস্কার ও সম্মাননা।

কোম্পানির মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেনিথ ইসলামী লাইফ ২৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নিট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে; যা আগের বছরে ছিল ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড ছিল ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

অন্যান্য কোম্পানি থেকে জেনিথ কেন ব্যতিক্রম এমন প্রশ্নের জবাবে বর্তমান মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এস এম নুরুজ্জামান ইকোনমি বিডি’র সঙ্গে আলাপকালে জানান, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটিতে রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শতাধিক গ্রুপ বিমা রয়েছে। যা অন্য কোন বিমা কোম্পানিটিতে নেই। এছাড়া আমরা বিমার মেয়দে শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করছি। ফলে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সফল হয়েছে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহক সন্তুষ্টির পাশাপাশি কোম্পানির শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে এসেছে নানা পুরস্কার ও সম্মাননা।
বিমা খাতে সুনাম ফেরাতে ড. এস এম নুরুজ্জামান কিছু পরামর্শ দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টদের। তিনি বলেন, অনেক বিমা কোম্পানি তাদের গ্রাহকের বিমার মেয়াদ শেষ হয়ার পরেও দেখা যাচ্ছে লাভসহ পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে সময়ক্ষেপন করছে। এতে বিমার ওপর গ্রাহকদের দিন দিন আস্থা কমে যাচ্ছে। ফলে বিমা খাতে সুনাম ফেরাতে সব কোম্পানিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে। তাহলে এ খাতে কোন ধরনের দুর্নাম থাকবে না। গ্রাহকের সংখ্যাও বাড়বে।

প্রসঙ্গত, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের বিনিয়োগ পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ব্যাংকাসুরেন্স চুক্তিও সই করেছে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। গেলো কয়েকদিন আগে মিডল্যান্ড ব্যাংকের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে কোম্পানিটি। শুধু তাই নয়, পুঁজিবাজারেও যাচ্ছে কোম্পানিটি। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা তুলতে চায় জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এক্ষেত্রে কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১.৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করবে। এই টাকা দিয়ে কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে। গ্রাহকরা মনে করছেন, বিমা খাতে স্বচ্ছতার প্রতীক জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১