নিজস্ব প্রতিবেদক: পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) বৃহষ্পতিবার সকাল ১১ টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জিটিসিএল ভবনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন, জাতীয় গ্যাসগ্রীড পরিচালনাকারী রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ), জিটিসিএল অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এসাসিয়েশন ও বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ ও জিটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তরা বলেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও সিস্টেম লসের নামে গ্যাস চুরির দায় বেশির ভাগ জিটিসিএলের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। ফলে ৩০ বছর ধরে আর্থিকভাবে লাভে থাকা কোম্পানিটি বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে।
বক্তারা আরো বলেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার স্বৈরাচারী কায়দায় মনগড়া গল্প সাজিয়েছেন। তিনি সিস্টেম লসের নামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্যাস সেক্টর থেকে হাজার হাজার টাকা লোপাট করেন। নিজে স্বেচ্ছাচারিতা কায়দায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সেক্টর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
বক্তরা আরও বলেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে পরিচালিত জিটিসিএল পরিচালনা পর্ষদকে সরকার কর্তৃক পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়েছে। পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদানকৃত জিটিসিএল পরিচালনা পর্ষদের ২৫ জুলাই ২০২২ এ অনুষ্ঠিত ৪৬২তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব এর নেতৃত্বে কোম্পানির ৬ষ্ঠ সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদিত হয়। কোম্পানির অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর পেট্রোবাংলায় অবহিতকরণের জন্য প্রেরণ করা হলে পেট্রোবাংলা জিটিসিএল বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত অর্গানোগ্রামের কারিগরি ক্যাডারের নতুন সৃষ্ট ৪৪শতাংশ পদ, সাধারণ ক্যাডারের নতুন সৃষ্ট ৬৪ শতাংশ পদ ও অর্থ ও হিসাব ক্যাডারের নতুন সৃষ্ট ৭৫ শতাংশ পদ বিলুপ্ত করে। দেশব্যাপী সঞ্চালন নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির ফলে কাজের পরিধি বৃদ্ধি ও সুষম ক্যারিয়ার প্লানিং বিবেচনা না করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব কর্তৃক অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম পেট্রোবাংলা কর্তৃক সিনিয়র সচিবের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকেই কোম্পানির নতুন সৃষ্ট পদের প্রায় ৫৫ শতাংশ কর্তন করে। যা ছিল অবিবেচনা প্রসুত এবং জিটিসিএল কাজের পরিধির সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান।
এ সময় বক্তারা দুর্নীতিবাজ অপশক্তির হাত থেকে গ্যাস সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ মুক্তি চায় বলে জানান। মানববন্ধন চলাকালে, “অবৈধ সিস্টেম লস, মানি না মানবো না; চেয়ারম্যানের সিস্টেম লস, মানি না মানবো না; দাবি এক দফা এক; চেয়ারম্যানের পদত্যাগ” স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে জিটিসিএল ভবন।
প্রসঙ্গত, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবারও একই স্থানে জিটিসিএল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন পালন করে। এছাড়া পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করে আসছে তিতাস গ্যাস ও জিটিসিএল এর কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।