• শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম বন্দরে চলছে দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি, স্থবির কার্যক্রম

Avatar photo
ইকোনমি বিডি
আপডেট: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কাজে যোগ না দেয়ায় আজও স্থবির বন্দরের কার্যক্রম। গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) শুধু অপারেশনাল কাজ বন্ধ থাকলেও আজ প্রশাসনিক কাজও বন্ধ রেখেছেন তারা। এতে বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ রয়েছে। যাতে ব্যাহত হয় আমদানি-রপ্তানি।

এদিকে, বন্দরে ধর্মঘট ডাকার ঘটনায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য প্রকৌশল কমোডর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েলকে প্রধান করে গঠিত হয়েছে এ তদন্ত কমিটি। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বন্দরের চেয়ারম্যানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী চার কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে বদলি করা হয়েছে।

আন্দোলনে থাকায় বদলি করা চার কর্মচারী হলেন- অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগ), ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন (১ম শ্রেণি-নৌ বিভাগ), উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম (অর্থ ও হিসাব বিভাগ), এস এস খালাসী ​মো. ফরিদুর রহমান (প্রকৌশল বিভাগ)।

এদিকে, এ পরিস্থিতিতে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা এক ‌গণবিজ্ঞপ্তিতে বন্দর এলাকায় এক মাস সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বসাধারণকে জানানো যাচ্ছে যে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং একটি ‌‘১ক’ শ্রেণির কেপিআইভুক্ত। দেশের মোট আমদানি ও রপ্তানির সিংহভাগ কার্যক্রম এ বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, শিল্প কারখানার কাঁচামালসহ আমদানি ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য পরিবহনে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ভেহিকেল ও প্রাইম মুভার বন্দরে চলাচল করে। এ বিপুল সংখ্যাক যানবাহনের কারণে বন্দরের আশপাশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পথসভার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

কাজেই বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক রাখাসহ জনশৃঙ্খলা, শান্তি নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ-১৯৭৮-এর ২৯ ও ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ অন্যান্য এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর প্রভৃতি বহন ও ব্যবহার এবং যেকোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা যা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা, মিছিল ও সমাবেশ এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেছে বিএনপিপন্থি শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর জেরে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১