• বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন

নতুন করে ৯০ প্রবাসীকে সিআইপি মর্যাদা দিতে যাচ্ছে সরকার

Avatar photo
ইকোনমি বিডি
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নতুন করে তিন ক্যাটাগরিতে ৯০ জন প্রবাসীকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সিআইপি) মর্যাদা দেবে সরকার। এর মধ্যে বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী হিসেবে সিআইপি নির্বাচিত হবেন সর্বোচ্চ ৭৫ জন।

ইতোমধ্যে তিনটি ক্যাটাগরিতে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি (অনাবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচনের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে, গত ৩০ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ভবন থেকে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী ২০২৭ সালের সিআইপি নির্বাচনের জন্য বিদেশে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশিদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট ৯০ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে তিনটি ক্যাটাগরিতে সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।

এর মধ্যে বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি বিনিয়োগকারী ক্যাটাগরিতে এ বছর সর্বোচ্চ ৫ জন নির্বাচিত হবেন। এর আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেশের শিল্পখাতে মূলধন হিসেবে সর্বনিম্ন ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বা তদূর্ধ্ব বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিনিয়োগকারীরা এ ক্যাটাগরির জন্য বিবেচিত হবেন।

বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী হিসেবে নির্বাচিত হবেন সর্বোচ্চ ৭৫ জন। এক্ষেত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অন্তত ১ লাখ ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে পাঠাতে হবে।

এছাড়া, বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ জন নির্বাচিত হবেন। এক্ষেত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ন্যূনতম ৩ লাখ ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেটের (পিআরসি) মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি এবং অধিক মূল্য সংযোজনসম্পন্ন বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবাসীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটের (https://stg-cip.oep.gov.bd) মাধ্যমে অনলাইনে এই আবেদন করা যাবে।

আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন অথবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হার্ড কপি আকারে কোনো আবেদন জমা দেওয়া যাবে না।

অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো আবেদন কিংবা এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সিআইপি নির্বাচন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের নানাপ্রান্ত থেকে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী বাংলাদেশি হিসেবে গত পাঁচ বছরে ৩২৬ জন সিআইপি হয়েছেন। এই তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পাঁচ বছরে দেশটি থেকে কেবল সর্বাধিক রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সিআইপি হয়েছেন ১৪৯ জন বাংলাদেশি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী আরব আমিরাত থেকে সিআইপির মর্যাদা পেয়েছেন। এছাড়া, বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও দেশটি থেকে পাঁচ বছরে সিআইপির মর্যাদা পেয়েছেন আরও ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০