• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

সৌদি সুরক্ষায় সেনা পাঠাবে পাকিস্তান-তুরস্ক

Avatar photo
ইকোনমি বিডি
আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ও দেশটির সামরিক-অর্থনৈতিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে অবশেষে সক্রিয় করা হয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ত্রিপাক্ষিক মক্কা প্রতিরক্ষা জোট। জোট সক্রিয় করার পাশাপাশি সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক।

সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটের নির্বাহী কমিটি যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েনের জন্য সম্মত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা প্রদানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত অনুসরণ করেই পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনী সৌদি আরবে মোতায়েন করা হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের অনুমোদিত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় আইন অনুযায়ী এই মোতায়েন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এর লক্ষ্য হলো সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা, তিন দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা-মদিনাসহ সৌদি শহর, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক।

হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হুথিরা অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো।

রিয়াদের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা, কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।

তুরস্কের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু।

পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ।

সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি।

বৈঠকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদও অংশ নেন। জোটের কমিটি তাকে তিন বছরের মেয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

জোটভুক্ত তিন দেশ বলেছে, প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা তাদের সম্মিলিত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি আরও শক্তিশালী হবে এবং জোটের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তিন দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করার বার্তা দিয়েছে।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করে আসছে তিন দেশ। আগস্টে ইস্তাম্বুলে জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানরা বৈঠক করেন। এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে তিন দেশের সামরিক প্রধানরা আরও আলোচনা করেন।

সোমবারের বৈঠকের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সৌদি আরবে সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১