সরকার আছে। সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে বাজার মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণে রাখা। সঙ্গে রিলেটড কৃষ্টি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়। এই তিন মন্ত্রণালয় খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাতকরণে সমন্বিতভাবে প্রচেষ্টা চালাবে। কিন্তু বাজারে সরকারের এই দফতরের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
নিত্যপণ্যের বাজার সরকারের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সরকার নানা কাজে সময় দিয়ে বাজারের নজর রাখতে পারছে না। আর এ সুযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পণ্যের বাজার থেকে পালিয়ে যাওয়া সিন্ডিকেট আবরণ পরিবর্তন করে ফের ঝেঁকে বসেছে। ফলে সাধারণ মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েকটি মাস স্বস্তিতে থাকলেও এখন রয়েছেন অস্বস্তিতে। এখন পণ্যমূল্য অনেকটাই ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে সবজির মূল্য আকাশছোঁয়া। আর মাছ গোশত সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। বেশ কিছু দিন মুদি পণ্যমূল্য স্থিতিশীল থাকলেও এখন ক্রমেই বাড়ছে।
খুচরা বাজারে খবর নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ করেই বেড়েছে মসুর ডালের দাম। কেজিতে বিশ থেকে ত্রিশ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। আটা, ময়দার দামও বেড়েছে পাঁচ থেকে নয় টাকা পর্যন্ত। বাজারে বেশিরভাগ সবজির কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। গেল সপ্তাহের তুলনায় ডিম মুরগির দাম কিছুটা কমলেও, মাছের বাজার চড়া। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কারণ ছাড়াই বেড়েছে আটা-ময়দা ও মসুর ডালের দাম। মসুর ডালের দাম কেজিতে বত্রিশ টাকা আর আটা-ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ৯ টাকা পর্যন্ত। দাম বাড়ার কারণ কোন অজুহাতও দেখাতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
বাজারে সবধরণের মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে, দাম নাগালের মধ্যে নেই নিম্ন ও মধ্য বিত্ত মানুষের। আর ইলিশ অনেকটা চিন্তার বাইরে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে মুরগির দাম। ব্রয়লার ১৭০ টাকায় আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা। পাঙাসও বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ব্রয়লার ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকা, লেয়ার, সোনালী এবং দেশি মুরগির দাম আরও বেশি। রাজধানীর বাজারে সোনালী মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩২০-৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল রয়েছে গরু ও খাসির গোশতের বাজার। গরুর গোশত কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০ টাকা এবং ছাগল ও খাসির গোশত ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লার মুরগি ছাড়া অন্য কিছু কেনার সুযোগ কমে যাচ্ছে। তাও আবার ব্রয়লারের দামও বাড়তি। অন্যদিকে মাছের বাজারে আকারভেদে ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার রুই মাছ আকারভেদে ৩৪০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট রুই ৩৪০, মাঝারি ৩৬০ ও বড় রুই ৩৮০ টাকা কেজি। এদিকে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম না কমায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, সাধারণত এই মৌসুমে বাজারে ইলিশের জোগান বাড়ে এবং দাম কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। সবচেয়ে ছোট মাছও কেজিপ্রতি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দাম থাকায় অনেক ক্রেতাই অসহায় বোধ করছেন। তারা বলছেন, ভরা মৌসুমেও যদি ইলিশ নাগালের বাইরে থাকে তবে স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে এ মাছ কেনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। তবে বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, নদীতে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না, সরবরাহ কম থাকায় দামও কমানো যাচ্ছে না।
এক কেজিরও বেশি ওজনের একফালি মিষ্টি কুমড়ার মূল্য কিছুদিন আগেও ছিল ২০ টাকা, আর এখন ওজনে এক কেজি মিষ্টি কুমড়া কিনতে হচ্ছে ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, প্রতি কেজি পটল ৮০ টাকা, প্রতি কেজি মুলা ৮০ টাকা, প্রতি কজি পেঁপে ৩০ টাকা, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, প্রতিকেজি বরবটি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, শাসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২০০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৫০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা, কঁচুর লতি প্রতি কেজি ৬০ টাকা, কাঁকরোল প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং গাজর প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।