• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

আখেরী মুনাজাতে দেশ-জাতি ও উম্মাহর শান্তি কামনা করেন পীর সাহেব চরমোনাই

চরমোনাইর ৩ দিনব্যাপী মাহফিল সমাপ্ত, সর্বত্র তাকওয়ার প্রতিজ্ঞা

Avatar photo
ইকোনমি বিডি
আপডেট: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

লাখো মানুষের তওবা, ইস্তেগফার ও রোনাজারিতে আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত ৩দিনব্যাপী অগ্রহায়ণের মাহফিল।

গত ২৬ নভেম্বর’২৫ বুধবার বাদ জোহর আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই’র উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয়ে আজ ২৯ নভেম্বর ‘২৫ শনিবার সকাল ৯.০০ টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় লক্ষ লক্ষ মুসল্লীদের আধ্যাত্মিক এ মিলনমেলা।

পীর সাহেব চরমোনাই আখেরী মোনাজাতে বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের জন্য দোয়া করেন এবং চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মামলাবাজদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর দোয়া করেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নিপিড়ীত মানুষের জন্য দোয়া করেন।

সমাপনী বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, দুনিয়ার মোহ-ই সকল পাপের উৎস। ব্যক্তি জীবনে আর্থিক অনিয়ম থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যত দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ যা কিছু ঘটে তার কারণও এই দুনিয়ার মোহ। অথচ দুনিয়া খুবই তুচ্ছ একটা জিনিস। হায়াত শেষ হলে পৃথিবীর কোন সম্পদ কারো কাজে লাগে না। তাই দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করতে হবে।

সমাপনী অধিবেশনের বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মানুষ আজ আল্লাহকে ভুলে নাফরমানি করছে অহরহ। অথচ একজন মানুষ কবরে গিয়ে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মত মনে করতে হবে। সুতরাং তাক্বওয়া বা আল্লাহর ভয় অর্জনের মাধ্যমে মহান রবের সন্তুষ্টি নিয়ে কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহর ভয় যার অন্তরে নেই ঐ মানুষ এমনকি আলেম, মুফতী ও পীরের কোন মূল্য নেই। তিনি বলেন নিজেকে নিজে ছোট মনে করতে হবে। আমিত্ব ভাব ও তাকাব্বুরী পরিত্যাগ করতে হবে। হিংসা বিদ্বেষ পরিত্যাগ করতে হবে। ঘোড়ার মুখে যেভাবে লাগাম থাকে সেভাবে রাগের মুখে লাগাম লাগাতে হবে। সকাল-সন্ধ্যা জিকিরের মাধ্যমে ক্বলব পরিশুদ্ধ করতে হবে। গীবতের মতো গুনাহ থেকে বাচিয়া থাকতে হবে। পরিবারের সবাইকে দ্বীন শিক্ষা দিয়ে দ্বীনের পাবন্দি করতে হবে। পরিবারে খাছ পর্দা জারি করতে হবে। সকল প্রকার নেশাজাত দ্রব্য হতে বাচিয়া থাকতে হবে। আলস্নাহওয়ালাদের কিতাব পড়তে হবে। সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির ও তালীমে নিয়মিত অংশ নিতে হবে। ছহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে।

সমাপনী অধিবেশনের বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই মাহফিল বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আখেরী মুনাজাতে অংশ নেয়া প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মোবারকবাদ জানান তিনি।

আখেরী বয়ানের পর পীর সাহেব চরমোনাই বিভিন্ন লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় তিনি মুরিদানদের সঠিক পথে পরিচালিত হবার বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। অতঃপর তিনি তাওবা করিয়ে গুনাহ থেকে বাচিয়া থাকার শপথ করান।

আখেরী মুনাজাতে পীর সাহেব চরমোনাই ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া সহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন। এবছর মাহফিলে মূল ৭টি বয়ানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কিরাম।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ কর্তৃক পাঠানো এক বার্তায় মাহফিল ও বয়ানের বিষয়গুলো জানানো হয়।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১