• শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

শুল্ক কমলেও লাগামছাড়া খেজুরের বাজার, এক মাসে কেজিতে বেড়েছে ২৫০ টাকা

Avatar photo
ইকোনমি বিডি
আপডেট: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে খেজুরের বাজারে অস্বস্তি বাড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের। বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচিত খেজুর আমদানিতে সরকার শুল্কহার কমালেও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। উল্টো গত এক মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের খেজুরের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এমনকি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য তুলনামূলক কমদামি খেজুরের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের ২৩ ডিসেম্বর খেজুর আমদানিতে শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে সরকার। এতে আমদানি বাড়বে এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। রমজান শুরুর আগেই খেজুরের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া জাহিদী খেজুর বর্তমানে কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও এই খেজুর পাওয়া যেত ২৫০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা। উন্নতমানের ইরানি মরিয়ম খেজুর এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা। কালমি মরিয়মের দামও বেড়ে কেজিতে ৯০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ছিল প্রায় ৭০০ টাকা। সুক্কারি খেজুরের দাম এক মাসে ২০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ টাকায়।

এছাড়া আজুয়া, বরই, দাবাস, মাবরুম, মেডজুল ও আম্বারাসহ প্রায় সব ধরনের খেজুরের দামই বেড়েছে। বর্তমানে আজুয়া বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা, বরই ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দাবাস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাবরুম ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আম্বারা ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়।

মানিকনগরের খুচরা ব্যবসায়ী মুন্না এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মহসিন মোল্লা বলেন, “এক মাসের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের খেজুরের দামই ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে। শুল্ক কমানো হলেও বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়ে গেছে। আমরা যদি বেশি দামে কিনি, কম দামে বিক্রি করার সুযোগ থাকে না।”

অন্যদিকে পাইকারি বাজারের তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান আরও বেশি। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বাদামতলীতে জাহিদী খেজুরের ৫ কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, অর্থাৎ কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে একই খেজুর বিক্রি হচ্ছে আরও ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে। ইরানি মরিয়মের ৫ কেজির প্যাকেট পাইকারিতে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি দাম গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকার কাছাকাছি।

বাদামতলী পাইকারি বাজারের সেসার্স আর এন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. এমদাদুল করিম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খেজুরের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে তা গত বছরের তুলনায় এখনও কম। তার দাবি, সৌদি আরব ও ইরানসহ খেজুর উৎপাদনকারী দেশগুলোতে দাম বেশি থাকায় আমদানিকারকদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রমজানজুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ক্রেতারা তুলনামূলক সহনীয় দামে খেজুর কিনতে পারবেন।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১