• শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ি, এটিএম বুথে ভিড়

Avatar photo
ইকোনমি বিডি
আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থ লেনদেন প্রতিরোধে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে এজেন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠানো ও উত্তোলন বন্ধ থাকায় নগদ অর্থ সংগ্রহে ব্যাংকের এটিএম বুথে ভিড় বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটিএম বুথের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় গ্রাহকদের। বিশেষ করে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথগুলোতে অন্য ব্যাংকের তুলনায় চাপ বেশি ছিল।

মধ্য বাড্ডার একটি ডাচ-বাংলা ব্যাংক এটিএম বুথে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন গ্রাহক টাকা তোলার অপেক্ষায় রয়েছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদ মাহমুদ বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের মাধ্যমে টাকা তুলতে না পারায় বাধ্য হয়ে বুথে আসতে হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে টাকার দরকার ছিল, কিন্তু এজেন্টরা জানিয়েছেন এখন ক্যাশ আউট বন্ধ। ব্যক্তিগত নম্বর থেকে সীমিত পরিমাণ টাকা পাঠানো গেলেও তা তার প্রয়োজনের তুলনায় কম।

রামপুরা এলাকাতেও একই ব্যাংকের একাধিক এটিএম বুথে একই চিত্র দেখা গেছে। তবে অন্য ব্যাংকের বুথগুলোতে তুলনামূলকভাবে ভিড় কম ছিল।

রামপুরার একটি বুথে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গার্মেন্টসকর্মী শিউলি আক্তার বলেন, সংসারের বাজারের টাকার জন্য তাকে বুথে আসতে হয়েছে। আগে পাশের এজেন্ট থেকেই সহজে টাকা তুলতেন। এখন ছোট সন্তান নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, এজেন্ট থেকে টাকা তুলতে না পারলে সাধারণ মানুষকে কেন এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

একই এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের লেনদেনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপরই তার নির্ভরতা। হঠাৎ এই বিধিনিষেধে ছোট ব্যবসায়ীরা বড় সমস্যায় পড়েছেন। এটিএম বুথে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় সময়মতো প্রয়োজনীয় নগদ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেক বুথে অপেক্ষমান মিলন হোসেন বলেন, বেতন পাওয়ার পর সংসার ও বাসাভাড়ার টাকা তুলতে এসে ভিড়ের মুখে পড়েছেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ির কারণেই এটিএমে এমন চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

একটি এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী জানান, বিকেল থেকেই গ্রাহকদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত টাকা উত্তোলনে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়নি।

রামপুরা এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এরফান জানান, বর্তমানে এজেন্ট নম্বর থেকে টাকা পাঠানো ও ক্যাশ আউট—দুটোই বন্ধ রয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভোট শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশাবাদী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট (পিপিআই) লেনদেনে বিশেষ সীমা কার্যকর থাকবে।

এই সময়ে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে। দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার, অর্থাৎ মোট ১০ হাজার টাকা লেনদেনের সুযোগ থাকবে।

তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ আগের নিয়মেই চালু থাকবে। এ ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের এমএফএস লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

নির্বাচনকালীন সময়ে এমএফএস-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিবিড়ভাবে নজরদারির আওতায় রাখা হবে। সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় জানাতে বলা হয়েছে।

এ সময় আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনও সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধ অনুযায়ী এমএফএস ও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে স্বাভাবিক লেনদেন ব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১